
কিংবদন্তি
তারাই, যারা বড় মঞ্চে ঠিক সময়ে জ্বলে উঠতে জানেন। যেমন চ্যাম্পিয়ন্স লীগ
ফাইনাল। ইতিহাসের সঙ্গে রিয়ালের অভিসারের মঞ্চে কী দারুণভাবেই না জ্বলে
উঠলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। পর্তুগিজ যুবরাজ জ্বলে উঠতেই খড়কুটোর মতো উড়ে
গেল জুভেন্টাস। রোনাল্ডোর জোড়া গোলে টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স
লীগ জিতে ইতিহাস গড়ল রিয়াল মাদ্রিদ। শনিবার কার্ডিফের প্রিন্সিপালিটি
স্টেডিয়ামে আরেকটি রোনাল্ডোময় রাতে জুভেন্টাসকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে
রিয়াল। পুরো টুর্নামেন্টে এর আগে মাত্র তিন গোল খাওয়া জুভেন্টাস ফাইনালে
হজম করল চার গোল! রোনাল্ডো-জিদান যুগলবন্দি আরও একবার ইউরোপসেরার আসনে বসাল
রিয়ালকে। সব মিলিয়ে রেকর্ড ১২ বার। গত চার বছরে তৃতীয়বার। ১৯৫৮ সালের পর
প্রথমবারের মতো লীগ ও চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ‘ডাবল’ জিতল রিয়াল। তবে সবচেয়ে বড়
কীর্তিটা অন্য জায়গায়। ১৯৯২ সালে ইউরোপসেরার প্রতিযোগিতাটি চ্যাম্পিয়ন্স
লীগ নামকরণের পর থেকে কোনো এক অজানা অভিশাপে কোনো দলই টানা দু’বার এ শিরোপা
জিততে পারেনি। সেই শাপমোচন হল জিনেদিন জিদানের হাত ধরে। ফুটবলে একটি
প্রচলিত ধারণা আছে, বড় খেলোয়াড়রা কখনও বড় কোচ হতে পারেন না। ধারণাটা ভুল
প্রমাণ করেই ছাড়লেন ফরাসি কিংবদন্তি। নিজের প্রজন্মের সেরা ফুটবলার ছিলেন।
রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে ১৭ মাসের মধ্যে টানা দুটি চ্যাম্পিয়ন্স
লীগ জিতে এবার কোচ হিসেবেও অমরত্ব পেয়ে গেলেন জিদান। চ্যাম্পিয়ন্স লীগ যুগে
যে কৃতিত্ব নেই স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন, হোসে মরিনহো, কার্লো
আন্সেলোত্তি ও পেপ গুয়ারডিওলার মতো পাঁচ তারকা কোচদেরও! কোচ জিদানের এমন
চকমপ্রদ সাফল্যে সবচেয়ে বড় অবদান তার সেনাপতি রোনাল্ডোর। চারবার
চ্যাম্পিয়ন্স লীগ জেতার পথে রেকর্ড তিনটি ফাইনালে গোল করেছেন পর্তুগিজ
মহাতারকা। টানা পাঁচ মৌসুম ধরেই চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সর্বোচ্চ গোলদাতা
তিনি।
এবার কোয়ার্টার ফাইনালের আগে মেসির ১১ গোলের বিপরীতে রোনাল্ডোর গোল
ছিল মোটে দুটি। কিন্তু শেষ আট থেকে ফাইনাল পর্যন্ত ১০ গোল করে শেষ পর্যন্ত
মেসিকে (১১) টপকে রোনাল্ডোই (১২) হলেন সেরা। ক্লাব ও দেশের হয়ে ৬০০ গোলের
মাইলফলক ছুঁয়ে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর ট্রুফিটাও কার্যত নিশ্চিত করে ফেললেন।
এবার ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে রোনাল্ডোর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবা হচ্ছিল
যাকে, সেই গিয়ানলুইগি বুফন আরও একবার হতাশার পোস্টার হয়ে গেলেন। তিনবার
ফাইনালে খেলেও চ্যাম্পিয়ন্স লীগ ট্রুফিটা অধরা রয়ে গেল ইতালির এই কিংবদন্তি
গোলকিপারের। জুভেন্টাসের ট্রেবল জয়ের স্বপ্নও রয়ে গেল অধরা। উল্টো সঙ্গী
হল লজ্জার কিছু রেকর্ড। চ্যাম্পিয়ন্স লীগে নিজেদের শেষ পাঁচটি ফাইনালেই
হারল তুরিনের বুড়িরা। সব মিলিয়ে রেকর্ড সাতবারের রানার্সআপ জুভেন্টাস!
ফাইনালের শুরুটা কিন্তু স্নায়ুক্ষয়ী এক লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল। প্রথমার্ধে
দু’দলই ছিল সমানে সমান। শুরুতে গোলকিপার কেইলর নাভাসের দারুণ এক সেভ
বাঁচিয়ে দেয় রিয়ালকে। কিন্তু ২০ মিনিটের দানি কারভাহালের পাস থেকে
রোনাল্ডোর জোরালো শট আটকাতে পারেননি বুফন। চ্যাম্পিয়ন্স লীগ যুগে এটি
রিয়ালের ৫০০তম গোল। রিয়ালের এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ মুছে দিয়ে ২৭ মিনিটে মারিও
মানজুকিচের অসাধারণ এক গোলে ঘুরে দাঁড়ায় জুভেন্টাস। দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে
যায় দৃশ্যপট। রিয়ালের দাপটে হারিয়ে যায় জুভেন্টাস। ৬১ মিনিটে রিয়ালকে ফের
এগিয়ে দেন কাসেমিরো। তার দূরপাল্লার শট জুভেন্টাসের সামি খেদিরার পায়ে লেগে
দিক পাল্টে জালে জড়ায়। তিন মিনিট পর লুকা মডরিচের ক্রস থেকে দারুণ এক
প্লেসিং শটে রোনাল্ডোর দ্বিতীয় গোল। ম্যাচ কার্যত সেখানেই শেষ। কিন্তু
জুভেন্টাসের দুঃখগাথার শেষপর্ব তখনও মঞ্চায়িত হয়নি। ৮৪ মিনিটে বদলি হিসেবে
নামা কুয়াদরাদো লাল কার্ড দেখার পর ৯০ মিনিটে জুভেন্টাসের কফিনে শেষ পেরেক
ঠুকে দেন আসেনসিও। এএফপি/ওয়েবসাইট।






Post a Comment