
আর্থিক
সংকট কাটিয়ে উঠতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন সাশ্রয় নীতি
অবলম্বন করেছে। বিভিন্ন খাতে অর্থ ব্যয় করার সময় একাধিক বার পর্যালোচনা করা
হচ্ছে। যেন অর্থ অপচয় না হয়। প্রশাসন সাশ্রয় নীতির কথা বললেও সরেজমিন
পর্যবেক্ষণে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। ফাঁকা শ্রেণীকক্ষে ঘন্টার পর ঘন্টা ঘুরছে
ফ্যান, চলছে এসি। অ্যাকাডেমিক এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন অফিসেরও একই অবস্থা।
সরেজমিন পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, শিক্ষক ক্লাস শেষ করে শ্রেণীকক্ষ ত্যাগ করার
সাথে শিক্ষার্থীরাও শ্রেনীকক্ষ ত্যাগ করে। কিন্তু শ্রেণীকক্ষের ফ্যান এবং
লাইটগুলো চলতেই থাকে। দেখা যায়, প্রতিটি বড় কক্ষে ১২ থেকে ১৫টি ফ্যান এবং
১০ থেকে ১৪টি বৈদ্যুতিক বাল্ব রয়েছে। অফিসগুলোতেও রয়েছে পর্যাপ্ত ফ্যান ও
বাল্ব। সম্প্রতি অনুষদ ভবনের ১০৩ নম্বর রুমে দ্পুুর সাড়ে ১২টার দিকে গিয়ে
দেখা যায় কক্ষের বৈদ্যুতিক পাখাগুলো ঘুরছে। অথচ কক্ষে কোনো
শিক্ষক-শিক্ষার্থী নেই। টিএসসিসির নিচ তলায় এবং দ্বিতীয় তলার করিডোরের
শ্রেণীকক্ষগুলোতে নিয়মিতই এমন দৃশ্য দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এসি বা
ফ্যান-লাইট বন্ধ না করেই দিন শেষে কক্ষের তালা ঝুলিয়ে চলে যান বিভাগের
কর্মচারীরা। সে ক্ষেত্রে সারা দিন সারা রাত যত সময় বিদ্যুত থাকে ততো সময়
ফ্যান লাইটগুলো ঘুরতেই থাকে। এতে বিদ্যুত অপচয় মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।
একই অবস্থা বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক অফিসগুলোর। ঘন্টার পর ঘন্টা
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রুমে না থাকলেও ফ্যান চলতেই থাকে। প্রশাসনিক ভবনের
কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কক্ষের ফ্যান-লাইট বন্ধ না করেই আম বাগানে চা খেতে
আসে।
মূলত বিদ্যুত অপচয়ের কারণেই প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকা অতিরিক্ত বিল
দিতে হচ্ছে প্রশাসনকে। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুত বিল সংক্রান্ত
যাবতীয় দায়িত্ব পালন উপ-প্রধান প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম। অফিসিয়াল তথ্য মতে,
২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ১৪ লাখ ৪০ হাজার ২৪১ টাকা, অক্টোবরে ১৯ লাখ ৩৬
হাজার ৬৪৯ টাকা, নভেম্বরে ১১ লাখ ৯ হাজার ৯৬৭ টাকা, ডিসেম্বরে ১৬ লাখ ৫০
হজার ১৪৯ টাকা, জানুয়ারি ২০১৭ তে ১১ লাখ ৫ হাজার ৬৫ টাকা এবং ফেব্রয়ারিতে
১০ লাখ ৫৭ হাজার ৯০০ টাকা বিদ্যুত বিল পরিশোধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। গরমের
সময় বিলের পরিমাণ বেড়ে যায়। তবে গরম আর শীতের মৌসুমের বিলের পরিমাণে খুব
বেশি পার্থক্য দেখা যায়নি। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, গরমে যেমন এসি বা
ফ্যান ব্যবহার করা হয়। শীতে তেমন বৈদ্যুতিক হিটার ব্যবহার করে রুমের উষ্ণতা
বৃদ্ধি করা হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এ কে সালাম বলেন, ‘আর্থিক
সংকটের একটি কারণ বিদ্যুত অপচয়। প্রতিমাসে আমাদেরকে ১২-১৮ লাখ টাকা বিদ্যুৎ
বিল দিতে হয়। নিজেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে এ সমস্যার সমাধান করা যেতে
পারে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিদ্যুত ও
পানির অপচয় রোধে বক্তব্য দেওয়া যেতে পারে।’ শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর
ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।
সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দও ক্লাসে পাঠদানের সময় বিদ্যুত অপচয়ের না করার বিষয়ে
সচেতনতামূলক শিক্ষা দিতে পারেন। নিজের সম্পদ নিজে হেফাজত করাই সর্বোত্তম।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং সেলও করা যেতে পারে। তবে এতে
খুব ভালো ফল পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।’






Post a Comment