
আগামী
মাস থেকে বিদ্যুৎ বিলের ওপর আপনাকে বর্ধিত হারে ভ্যাট দিতে হবে। কিন্তু
আগামী মাস থেকে আপনি যদি বাইরে থেকে ‘জীবন্ত ঘোড়া, গাধা, খচ্চর ও ঘোটক’
আমদানি করেন তবে তার ওপর কোনো ভ্যাট দিতে হবে না। কারণ আগামী অর্থবছরের
প্রস্তাবিত বাজেটে এসব পণ্যকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, শূকরের মাংস, তাজা বা ঠাণ্ডা যেকোনোভাবেই আমদানি করা হোক না
কেন তাতে কোনো ভ্যাট দিতে হবে না। দেশীয় চাল, মুড়ি, ভোজ্যতেল, লবণ, চিনি ও
দুধের পাশাপাশি লেটুস এবং চিকোরি, তাজা অথবা ঠাণ্ডা এবং নারিকেল, ব্রাজিল
বাদাম এবং কাজু বাদাম, তাজা অথবা শুকনা খোলস বা আবরণ ছাড়ানো হোক বা না হোক
তাকেও ভ্যাটের আওতায় বাইরে রাখা হয়েছে। রূপপুর পারমাণিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের
যন্ত্রপাতিকে ভ্যাট অব্যাহতি তালিকায় রাখা হলেও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে
হলে কিন্তু গ্রাহককে আগামী মাস থেকে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট প্রদান করতে হবে।
সরকারের ফাস্ট ট্রাকের সব প্রকল্পের বেশির ভাগ সরবরাহ, নির্মাণ ও
ইন্টারনেটকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। কিন্তু সাধারণ গ্রাহক সবাইকেই
ইন্টারনেট ব্যবহার করলে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে। মূল্য সংযোজন কর ও
সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর ধারা ২৬-এ এই ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের
তালিকা দেয়া হয়েছে। এটিই বহুল আলোচিত ভ্যাট আইন হিসেবে আগামী ১ জুলাই থেকে
কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এখন প্রশ্ন দেখা দিয়েছেÑ এ কেমন ভ্যাট
অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্য! বাংলাদেশে কারা গাধা বা শূকরের মাংস আমদানি করে?
তাদের অংশ বা কতটুকু। এ ধরনের পণ্যকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া পণ্যের তালিকায়
স্থান দেয়া কী শুধু পণ্যের তালিকা বাড়িয়ে দেখানোর প্রবণতাকে চিহ্নিত করবে?
আগে ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের তালিকা ৫০০ মতো থাকলেও নতুন ভ্যাট আইনে
তার সংখ্যা করা হয়েছে এক হাজার ৪৩টি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, শুধু ‘লোক
দেখানো’র জন্য ভ্যাট অব্যাহতি পণ্যের তালিকা লম্বা করা হয়েছে।
কিন্তু এই
লম্বা তালিকার অনেক পণ্য বাংলাদেশে কেউ আমদানি করে বলে মনে হয় না। ভ্যাট
অব্যাহতি পণ্যের তালিকায় এমন কিছু পণ্য নাম দেয়া হয়েছে, যা দেশের মানুষ আগে
কখনো শুনেছেন বলে মনে হয় না। যেমন নতুন ভ্যাট আইনে বলা হয়েছেÑ) জীবন্ত
পক্ষীগুলো, যা গ্যালাস ডোমেস্টিকাস প্রজাতির পক্ষীগুলো, পাতিহাঁস, হংসী
টার্কি এবং গিনি পক্ষীগুলো’ আমদানি ও সরবরাহকারীকে ভ্যাট প্রদান করতে হবে
না। এসব পণ্যকে ভ্যাট অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের
তালিকায় আরো রয়েছেÑ জীবন্ত গবাদিপশু’ জীবন্ত ভেড়া ও ছাগল, অন্যান্য জীবন্ত
পশু, গবাদি পশুর গোশত, তাজা অথবা ঠাণ্ডা (২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়ক বা টিনজাত
ছাড়া), ভেড়া অথবা ছাগলের গোশত, ঠাণ্ডা অথবা হিমায়িত (২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়ক
বা টিনজাত ছাড়া), ঘোড়া, গাধা, খচ্চর অথবা ঘোটকের মাংস, তাজা, ঠাণ্ডা অথবা
হিমায়িত (২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়ক বা টিনজাত ছাড়া)। গবাদি পশু, শূকর, ভেড়া,
ছাগল, ঘোড়া, গাধা, খচ্চর অথবা ঘোটকের ভোজ্য নাড়িভূঁড়ি, তাজা, ঠাণ্ডা, অথবা
হিমায়িত (২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়ক বা টিনজাত ছাড়া)। ভ্যাট অব্যাহতিপ্রাপ্ত
পণ্যের তালিকায় আরো স্থান পেয়েছেÑ শূকরের মেদবিহীন মাংস এবং গৃহপালিত
পক্ষীগুলোর মেদ (গলানো নয়) তাজা, ঠাণ্ডা, হিমায়িত অথবা শুকনা। জীবন্ত মাছ।
খোলকযুক্ত অথবা খোলক ছাড়ানো, জীবন্ত, তাজা, ঠাণ্ডা, হিমায়িত, শুকনা,
লবণাক্ত বা লবণ পানিতে সংরক্ষিত শামুক জাতীয় প্রাণী, শামুক বা কাকড়া জাতীয়
প্রাণী ছাড়া অন্যান্য জলজ অমেরুদণ্ডী প্রাণী জীবন্ত তাজা ঠাণ্ডা, হিমায়িত,
শুকনা, লবণাক্ত বা লোনা পানিতে সংরক্ষিত। খোলকযুক্ত পাখির ডিম, তাজা,
সংরক্ষিত বা রন্ধনকৃত। গাজর, শালগম, সালাদ বিটমূল, স্যালসিফাই, সেলিরিয়াক,
মুলা এবং এই জাতীয় ভোজ্য মূল, তাজা অথবা ঠাণ্ডা (২.৫ কেজি পর্যন্ত মোড়ক বা
টিনজাত ছাড়া)।






Post a Comment