Last Update
http://goo.gl/LG0Hw5

Tuesday, April 18, 2017

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে কতক্ষণ টিকবে উত্তর কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনায় দু’দেশের মধ্যে যে কোনো মুহূর্তে যুদ্ধ বেধে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ যুদ্ধে উত্তর কোরিয়া সামরিক শক্তিমত্তায় কতক্ষণ টিকে থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংখ্যার দিক থেকে উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী অনেক বড় এবং খুবই কার্যক্ষম। কর্মক্ষমতার দিক থেকে এ সেনাবাহিনীর অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। এছাড়া দেশটির প্রধান নেতা কিম জং উনের মধ্যে অস্থির ও আক্রমণাত্মক স্বভাব রয়েছে। পারমাণু বোমা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে দেয়ার হুমকির মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ আলোচনায় কিম। পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার পাল্টা জবাব দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও। এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হুমকিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার সক্ষমতার বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, যেহেতু দেশটির একটি বিশাল বড় সংখ্যার সেনাবাহিনী রয়েছে, তাই তাদের হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। পাশাপাশি যুদ্ধের জন্য বিপুল অস্ত্রশস্ত্র ও বোমা-বারুদের মজুদও রয়েছে তাদের। শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তেই উত্তর কোরিয়ার প্রায় ১৩ হাজার বন্দুকধারী রয়েছে। উত্তর কোরিয়া যদি দক্ষিণ কোরিয়া বা অন্য যে কোনো প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে একবার আক্রমণ করে বসে, তাহলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ধ্বংসাত্মক অবস্থা সৃষ্টি হবে, যা দেখে হয়তো সামরিক শক্তির দিক থেকে ব্যাপক পরাক্রমশালী রাষ্ট্রগুলোও বিস্মিত হতে পারে। বলা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার প্রায় ১০ লাখ ১০ হাজার থেকে ৬ লাখ ৯০ হাজারের মতো কার্যক্ষম সেনাবাহিনী রয়েছে। দেশটির ৪০ লাখ ১০ হাজার থেকে ৭০ লাখ ৭০ হাজারের মতো সৈন্য মজুদ রয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতিতে তাদের কাজে লাগানো হবে। তাই স্বাভাবিকভাবে উত্তর কোরিয়া একটি হুমকি। নিকটবর্তী দেশগুলোর জন্য এ হুমকির মাত্রাটা একটু বেশি। তবে দেশটির বিমান বাহিনী এবং নৌবাহিনী চরমভাবে সেকেলে ও প্রচুর ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, দেশটি প্রায়ই তেলের স্বল্পতার জন্য তাদের সব বিমান চালাতে পারে না। সঙ্গত কারণেই তাদের পাইলটদের আকাশে ওড়ার অভিজ্ঞতা একেবারেই কম।
একই অবস্থা নৌবাহিনীতেও। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার মতো শক্তিশালী দেশ একবার উত্তর কোরিয়ার ওপর আক্রমণ চালালে খুব সহজেই সিউলকে আত্মসমর্পণ করতে হবে। দেশটি ইতিমধ্যে খাদ্য ও জ্বালানি নিয়ে সংকটের মুখে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার শক্তির এই আলোচনা দিনশেষে গড়াবে দেশটির পরমাণু সক্ষমতার ওপর। বিশ্লেষকরা এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন। অধিকাংশই বলছেন, পরমাণু বোমা তৈরির সব ধরনের কাঁচামাল উত্তর কোরিয়ার রয়েছে। কারিগরি দুর্বলতার কারণে বোমা তৈরির এ উদ্যোগ দূরপাল্লার টর্পেডোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তবে উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম ইল সাংয়ের ১০৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সামরিক মহড়ায় দুটি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের প্রদর্শনী করেছে। পাঁচ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে গিয়ে এ ক্ষেপণাস্ত্র দুটি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম। এদিকে দু’দেশের মধ্যে এ যুদ্ধে চীনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অতীত থেকে জানা যায়, উত্তর কোরিয়ার একমাত্র কূটনৈতিক মিত্র চীন। দেশটি বহু বছর ধরে উত্তর কোরিয়াকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে এসেছে। বিভিন্ন যুদ্ধের ময়দানে চীনকেই সবার আগে পাশে পেয়েছে পিয়ংইয়ং। এর আগে ১৯৪৯ সালে নিজেদের গৃহযুদ্ধ শেষ করে চীন। এরপরই ১৯৫০-৫৩ সালের দিকে কোরিয়া যুদ্ধে উত্তরকে সহযোগিতা প্রদান করে তারা। এর আগে ১৫৯০ ও ১৫৯৭ সালে কোরিয়ায় জাপানি আক্রমণে চীন কোরিয়াকে রক্ষা করে আক্রমণকারীদের পেছনে সরায় এবং পিয়ংইয়ংকে মুক্ত করে। এরপরের প্রায় ৩০০ বছর ধরে কোরিয়া চীনের এই সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞ ভাব প্রকাশ করে।

Post a Comment

 
Back To Top